পে স্কেল ২০২৬ হিসাব পদ্ধতি: আপনার নতুন বেতন কীভাবে ঠিক হবে
সর্বশেষ হালনাগাদ: পড়তে লাগবে প্রায় ৪ মিনিট
চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ (এসআরও ৩৪৭-আইন/২০২৬, গেজেট ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর। নতুন বেতন একবারে পুরো দেওয়া হচ্ছে না — ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। এই গাইডে মূল বেতন নির্ধারণ, ধাপের হার আর ভাতার নিয়ম সহজ ভাষায় বোঝানো হলো।
পে স্কেল ২০২৬ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন →ধাপ ১: নতুন মূল বেতন নির্ধারণ (অনুচ্ছেদ ৫)
৩০ জুন ২০২৬-এ আপনি পুরোনো (২০১৫) স্কেলে যে মূল বেতন পেতেন, তা থেকে আপনার গ্রেডের পুরোনো শুরুর ধাপ বিয়োগ করুন — এটি পার্থক্য। নতুন স্কেলের শুরুর ধাপের সঙ্গে এই পার্থক্য যোগ করলে যে অঙ্ক হয়, নতুন স্কেলের সেই অঙ্ক বা তার ঠিক পরের ধাপে আপনার নতুন মূল বেতন নির্ধারিত হয়।
যেমন ১৬তম গ্রেডে পুরোনো শুরুর বেতন ৯,৩০০ টাকা হলে নতুন মূল বেতন ২১,৯০০ টাকা। ১০ম গ্রেডে ১৬,০০০ টাকা থেকে ৩২,০০০ টাকা।
ধাপ ২: দুই কিস্তিতে নতুন বেতন
ধাপের বেতন = পুরোনো বেতন + হার × (নতুন বেতন − পুরোনো বেতন)। ১৬তম গ্রেডের উদাহরণে: প্রথম ধাপে ৯,৩০০ + ৫০% × ১২,৬০০ = ১৫,৬০০ টাকা; দ্বিতীয় ধাপে ১৮,৭৫০ টাকা; ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ ২১,৯০০ টাকা ও ইনক্রিমেন্ট।
| সময় | গ্রেড ১–৯ | গ্রেড ১০–২০ |
|---|---|---|
| জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ | বৃদ্ধির ৪০% | বৃদ্ধির ৫০% |
| জানুয়ারি–জুন ২০২৭ | বৃদ্ধির ৭০% | বৃদ্ধির ৭৫% |
| ১ জুলাই ২০২৭ থেকে | পূর্ণ নতুন বেতন + ইনক্রিমেন্ট | পূর্ণ নতুন বেতন + ইনক্রিমেন্ট |
ভাতার নিয়ম
- ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বাড়িভাড়াসহ ভাতাগুলো ৩০ জুন ২০২৬-এর অঙ্কে স্থির থাকবে।
- ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন হারে ভাতা — বাড়িভাড়া গ্রেড ও এলাকাভেদে মূল বেতনের ৬০% থেকে ২৫%।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ সুবিধা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বিলুপ্ত; বকেয়া হিসাবে তা সমন্বয় হয়।
শুরুর মূল বেতন (২০২৬)
| গ্রেড | শুরুর মূল বেতন |
|---|---|
| ১ম | ১,৫৬,০০০ টাকা (নির্ধারিত) |
| ৯ম | ৪৪,০০০ টাকা |
| ১০ম | ৩২,০০০ টাকা |
| ২০তম | ২০,০০০ টাকা |
আরেকটি উদাহরণ: ১০ম গ্রেড
৩০ জুন ২০২৬-এ ১০ম গ্রেডে মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা (পুরোনো শুরুর ধাপ) হলে নতুন মূল বেতন ৩২,০০০ টাকা। বৃদ্ধি ১৬,০০০ টাকা। গ্রেড ১০–২০-এ প্রথম ধাপে বৃদ্ধির ৫০% (মূল বেতন ২৪,০০০ টাকা), দ্বিতীয় ধাপে ৭৫% (২৮,০০০ টাকা), ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ ৩২,০০০ টাকা ও ইনক্রিমেন্ট। গ্রেড ১–৯-এ এই দুই ধাপ ৪০% ও ৭০%।
বকেয়া কীভাবে হিসাব হয়
নতুন বেতন চালু না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো মূল বেতন ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ সুবিধা তোলা হয়। বিশেষ সুবিধা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বিলুপ্ত, তাই ক্যালকুলেটর প্রতি মাসের বকেয়া ধরে: প্রথম ধাপের মূল বেতন − পুরোনো মূল বেতন − বিশেষ সুবিধা। বিশেষ সুবিধা মূল বেতনের ১০% (গ্রেড ১–৯) বা ১৫% (গ্রেড ১০–২০), সর্বনিম্ন ১,৫০০ টাকা।
উদাহরণ: ১০ম গ্রেডে পুরোনো মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা হলে বিশেষ সুবিধা ২,৪০০ টাকা; প্রতি মাসের বকেয়া = ২৪,০০০ − ১৬,০০০ − ২,৪০০ = ৫,৬০০ টাকা।
কারা এই হিসাবে পড়েন না
- যাঁদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি হয় (যেমন এমপিওভুক্ত শিক্ষক) — প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর মিলিয়ে নিন।
- ঝুঁকি বা বিশেষ ভাতা, আয়কর ও অন্যান্য কর্তন এই হিসাবে ধরা হয়নি।
ধাপে ধাপে
- পে স্কেল ২০২৬ ক্যালকুলেটর খুলুন।
- চাকরিরত হলে আপনার গ্রেড ও ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন দিন; নতুন নিয়োগ হলে শুধু গ্রেড।
- এলাকা ও ভাতার তথ্য (যেমন সন্তান, বয়স ৫০-এর বেশি কিনা) দিন।
- প্রতিটি সময়ের বেতন, বকেয়া ও পরের ইনক্রিমেন্ট দেখুন; চাইলে PDF বা Excel নামিয়ে নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
চূড়ান্ত বেতন কোথায় নির্ধারণ হবে?
সরকারি হিসাবরক্ষণ অফিসের iBAS++ পে-ফিক্সেশনে। এই ক্যালকুলেটর গেজেটের নিয়মে আনুমানিক হিসাব দেয়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কি একই নিয়মে?
এমপিওভুক্তদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি হয়; তা প্রকাশের আগে এই হিসাব প্রযোজ্য ধরে নেবেন না।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন কত?
১ জুলাই ২০২৬ বা পরে নিয়োগ হলে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নতুন স্কেলের শুরুর ধাপ থেকে বেতন শুরু হয় — যেমন ২০তম গ্রেডে ২০,০০০ টাকা।
PDF বা Excel রিপোর্ট কি অফিসে জমা দেওয়া যাবে?
এটি আনুমানিক হিসাবের রিপোর্ট, অফিসিয়াল পে-ফিক্সেশন নয়; নিজের হিসাব মেলাতে ব্যবহার করুন।
পড়া হয়ে গেলে এখনই চেষ্টা করুন — সম্পূর্ণ ফ্রি, কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই।
পে স্কেল ২০২৬ ক্যালকুলেটর খুলুন →