আয়কর হিসাব করার নিয়ম (করবর্ষ ২০২৬-২৭)
সর্বশেষ হালনাগাদ: পড়তে লাগবে প্রায় ৩ মিনিট
করবর্ষ ২০২৬-২৭ মানে আয়বর্ষ ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬। এই গাইডে ব্যক্তি করদাতার সাধারণ হিসাব ধাপে ধাপে দেখানো হলো: কোন আয়ে কর নেই, কোন অংশে কত হার, আর বিনিয়োগ করলে কর কতটা কমে।
আয়কর ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন →করমুক্ত আয়সীমা
প্রতিবন্ধী সন্তান বা পোষ্যের জন্য প্রতিজনে আরও ৫০,০০০ টাকা (সর্বোচ্চ ৩ জন, একজন অভিভাবক দাবি করতে পারেন)।
| করদাতা | করমুক্ত সীমা |
|---|---|
| সাধারণ | ৪,০০,০০০ টাকা |
| নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি | ৪,৫০,০০০ টাকা |
| তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী | ৫,২৫,০০০ টাকা |
| যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধা | ৫,৫০,০০০ টাকা |
করমুক্ত সীমার পরের স্ল্যাব
| আয়ের অংশ | করহার |
|---|---|
| পরের ৩,০০,০০০ টাকা | ১০% |
| পরের ৪,০০,০০০ টাকা | ১৫% |
| পরের ৫,০০,০০০ টাকা | ২০% |
| পরের ২০,০০,০০০ টাকা | ২৫% |
| বাকি আয় | ৩০% |
বেতনের অব্যাহতি, রেয়াত ও ন্যূনতম কর
- বেতনের এক-তৃতীয়াংশ অথবা ৫,০০,০০০ টাকা — যেটি কম, তা করযোগ্য আয় থেকে বাদ।
- বিনিয়োগ রেয়াত = করযোগ্য আয়ের ৩%, যোগ্য বিনিয়োগের ১০% ও ৭,৫০,০০০ টাকার মধ্যে সবচেয়ে কম অঙ্ক।
- করযোগ্য আয় সীমা ছাড়ালে ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা (নতুন করদাতার জন্য ১,০০০ টাকা)।
উদাহরণ
বছরে বেতন ১২,০০,০০০ টাকা, সাধারণ করদাতা। অব্যাহতি ৪,০০,০০০ (এক-তৃতীয়াংশ) → করযোগ্য আয় ৮,০০,০০০। প্রথম ৪,০০,০০০ করমুক্ত; পরের ৩,০০,০০০-এ ১০% = ৩০,০০০; বাকি ১,০০,০০০-এ ১৫% = ১৫,০০০। মোট কর ৪৫,০০০ টাকা।
একই ব্যক্তি ১,০০,০০০ টাকা যোগ্য বিনিয়োগ করলে রেয়াত ১০,০০০ টাকা (১০% সবচেয়ে কম), কর দাঁড়ায় ৩৫,০০০ টাকা।
স্ল্যাব কীভাবে কাজ করে — সহজ ব্যাখ্যা
পুরো আয়ের ওপর একটি হার বসে না। আয়কে ধাপে ভাগ করা হয়: প্রথম অংশ করমুক্ত, পরের অংশে ১০%, তার পরের অংশে ১৫% — এভাবে। তাই আয় বাড়লে শুধু বাড়তি অংশে বেশি হার বসে, আগের অংশের কর বদলায় না।
রিটার্ন জমার আগে যা যা গুছিয়ে রাখবেন
- বছরের বেতন বিবরণী ও উৎসে কাটা করের সনদ।
- বিনিয়োগের প্রমাণপত্র।
- ব্যাংক হিসাবের বিবরণী ও অন্যান্য আয়ের কাগজ।
ধাপে ধাপে
- আয়কর ক্যালকুলেটর খুলুন ও করদাতার ধরন বেছে নিন।
- বছরের মোট বেতন ও অন্যান্য আয় দিন।
- যোগ্য বিনিয়োগের পরিমাণ ও উৎসে কাটা কর দিন।
- স্ল্যাবভিত্তিক কর, রেয়াত ও প্রদেয় কর দেখুন; চাইলে CSV বা প্রিন্ট নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
রিটার্ন জমার শেষ সময় কবে?
ক্যালকুলেটরে করবর্ষ ২০২৬-২৭-এর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা দেখানো হয়; শেষ তারিখ ৩০ জুন ২০২৭। NBR-এর সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন।
ব্যবসা বা বাড়িভাড়ার আয় থাকলে?
অন্যান্য আয়ের ঘরে দিন। জটিল ক্ষেত্রে (যেমন বিশেষ হারের আয়) কর আইনজীবী বা NBR-এর নির্দেশিকা দেখুন।
নতুন করদাতার ন্যূনতম কর কত?
করযোগ্য আয় সীমা ছাড়ালে নতুন করদাতার ন্যূনতম কর ১,০০০ টাকা; অন্যদের ৫,০০০ টাকা।
উৎস
পড়া হয়ে গেলে এখনই চেষ্টা করুন — সম্পূর্ণ ফ্রি, কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই।
আয়কর ক্যালকুলেটর খুলুন →